প্রচ্ছদ > লাইফস্টাইল >

ওজন কমাতে যেভাবে তৈরি করবেন নিরাপদ ‘ক্যালরি ডেফিসিট’

article-img

ওজন কমানোর মূল ভিত্তি হলো ‘ক্যালরি ডেফিসিট’ বা ক্যালরির ঘাটতি—অর্থাৎ আপনি সারাদিনে যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করেন, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ পোড়ানো। তবে শরীরকে যথাযথ পুষ্টি দিয়ে এবং সুস্থ থেকে কীভাবে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়, তা জানা জরুরি। 

হুট করে মারাত্মক পরিবর্তন না এনে ধীরে ধীরে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী উপায়। 

ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করার উপায় 

ক্যালরি ঘাটতি মূলত দুটি উপায়ে করা যায়: খাবার থেকে ক্যালরি কমানো এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্যালরি পোড়ানো। তবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো দুটি পদ্ধতির সমবায় বা সমন্বয়।

মিশ্র পদ্ধতি (সবচেয়ে কার্যকর): উদাহরণস্বরূপ, দৈনিক ৫০০ ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করতে খাবার থেকে ২৫০ ক্যালরি ছেঁটে ফেলুন এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে ২৫০ ক্যালরি বার্ন করুন।

খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: খাবার বা পানীয়ের প্রতি নজর রাখা জরুরি। মিষ্টি পানীয় বর্জন, খাবারের পরিমাপ কমানো এবং কম ক্যালরিযুক্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে শুরু করা যেতে পারে। 

শারীরিক ব্যায়াম: দৈনন্দিন পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন করতে হবে। 

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (নির্দিষ্ট সময়ে উপবাস): অনেকে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ের বিরতিতে খেয়ে ক্যালরি কমান। এর মধ্যে রয়েছে—

১৬:৮ পদ্ধতি: দিনে ১৬ ঘণ্টা উপবাস এবং বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ।

৫:২ পদ্ধতি: সপ্তাহে ৫ দিন স্বাভাবিক খাবার এবং বাকি ২ দিন সীমিত ক্যালরি গ্রহণ। 

অল্টারনেট-ডে ফাস্টিং: এক দিন পর পর ক্যালরির পরিমাণ একদম কমিয়ে ফেলা। 

ক্যালরি ঘাটতির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

সঠিক নিয়মে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করতে পারলে শরীরের বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে: 

  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও চর্বি হ্রাস।
  • বাত বা আর্থাইটিসের ব্যথা এবং শারীরিক অক্ষমতা কমে যাওয়া।
  • উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস।
  • ঘুম ভালো হওয়া এবং বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা কমে যাওয়া।

অতিরিক্ত ক্যালরি ঘাটতির স্বাস্থ্যঝুঁকি

দ্রুত ওজন কমাতে গিয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি কমানো বা দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ডায়েট করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে: 

শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি: পেশির ভর (মসল মাস) কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা। 

মানসিক প্রভাব: মেজাজ খিটখিটে হওয়া থেকে শুরু করে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি হওয়া। 

হজম ও অন্যান্য সমস্যা: কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, বমি ভাব এবং পিত্তথলিতে পাথর (গলস্টোন) হওয়া।

হরমোন ও পুষ্টির ঘাটতি: প্রজনন ক্ষমতা বা যৌন অনুভূতি হ্রাস পাওয়া এবং শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব তৈরি হওয়া।

তাই কোনো চরম পদক্ষেপ না নিয়ে, পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করাই ওজন কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।